ছাতা না রেইনকোটঃ কোনটা বেশি কার্যকর?

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬

ছাতা না রেইনকোটঃ কোনটা বেশি কার্যকর?

শায়লা জাহান


বৃষ্টির আছে এক অদ্ভূত ক্ষমতা যা মুহূর্তেই ছুঁয়ে যায় মানুষের হৃদয় ও মন। তাই তো যুগে যুগে কবি, সাহিত্যিক ও গীতিকাররা তাঁদের সৃষ্টিতে বর্ষার সৌন্দর্যকে নানা রুপে তুলে ধরেছেন। কবিগুরুর “আজি ঝরঝর মুখর বাদর দিনে’’ কিংবা “বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’’- গানে কথার ও সুরের মূর্ছনায় বর্ষার স্নিগ্ধ, আবেগময় রুপের পাশাপাশি প্রেমের আবেশকে এমন নিপুনভাবে মিশিয়েছেন, যা আজও  বাঙালির হৃদয়ে সমানভাবে অনুরণিত হয়। অন্যদিকে কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গানে বর্ষা ধরা দিয়েছে কখনও প্রমত্ত, কখনও ঝোড়ো আবার কখনো বা রোমান্টিক আবহে। 


তবে বর্ষা যতোই মনোমুগ্ধকর হোক না কেন, এর জন্য অনেক ভোগান্তিরও স্বীকার হতে হয় যা অস্বীকার করার উপায় নেই। অফিস, স্কুল, কলেজ কিংবা বাজার; বর্ষার দিনে কোথাও বের হতে গেলে এর বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। তখন একটি প্রশ্ন প্রায়ই সামনে আসে, ছাতা নেব নাকি রেইনকোট? দুটোই বৃষ্টি থেকে সুরক্ষা দেয়, কিন্তু সব পরিস্থিতিতে কি একই রকম কার্যকর? আসুন জেনে  নেওয়া যাক কোন পরিস্থিতিতে কোনটি হবে আপনার জন্য সেরা সঙ্গী। 


যখন ছাতাই সেরা সঙ্গী

ছাতা, আমাদের প্রতিদিনকার ব্যবহার্য জিনিসপত্রের মধ্যে অন্যতম এক অনুষঙ্গ। আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগেও মানুষ ছাতা ব্যবহার করতো। রোদ হোক কিংবা বৃষ্টি, ছাতার কোন বিকল্প নেই। এর কিছু অনন্য সুবিধা রয়েছে-


  • সহজ ব্যবহারযোগ্য। হঠাৎই  বৃষ্টি এলো, আর বোতাম চাপলেই ছাতা খুলে গেলো। এর মতো এতো সহজেই ব্যবহার করা যায় এমন কিছু আর দ্বিতীয়টি নেই। রেইনকোটের মতো গায়ে জড়ানো বা খোলার ঝক্কি এতে নেই। 
  • সহজে বহনযোগ্য। আজকাল এমন অনেক ছাতা বের হয়েছে যা দেখতে অনেকটা ক্যাপসুল আকৃতির। অর্থাৎ, ছোট এবং ফোল্ডিং করে রাখা যায়। অনেক বেশি জায়গার প্রয়োজন পড়েনা। ভাঁজ করে ব্যাগের এক কর্নারে অনায়াসে ক্যারি করা যায়। 
  • বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকার কারনে গরম বেশি অনুভূত হয়। রেইনকোট যেহেতু পুরো শরীর জুড়ে থাকে, তাই অনেকেরই গরম লাগে ও ঘাম হয়। ছাতা ব্যবহারে শরীরে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক থাকে, ফলে আরাম পাওয়া যায়। 
  • এই সময় রোদ-বৃষ্টিতে যেনো লুকোচুরি খেলে। এই বৃষ্টির মাঝে হঠাৎ করেই রোদের দেখা মেলে। ছাতা বর্ষার পানি থেকে যেমন রক্ষা করে, তেমনি হঠাৎ ভ্যাপসা গরম ও কড়া রোদ থেকেও সুরক্ষা দেয়। 
  • রেইনকোট পরলে অনেক সময় ভেতরের পোশাক কুঁচকে যেতে পারে। ছাতা ব্যবহার করলে পোশাকের স্বাভাবিকতা বজায় থাকে। 
  • ছাতা মাথার পাশাপাশি মুখের ওপর সরাসরি পানির ফোঁটা পড়া কমায়। বিশেষ করে যারা চশমা ব্যবহার করেন, মুখে পানির ঝাপটা পড়ার মতো এই অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা হয়নি এমন মানুষ হয়তো কমই পাওয়া যাবে। তাদের জন্য ছাতাটা বেশ কাজে দেয়। 
  • অল্প দূরত্বে বা হাঁটা পথে যারা অফিস, স্কুল বা বাজারে যান এবং খুব বেশি বাতাস বা ভারী বৃষ্টি না থাকলে, তাদের জন্য ছাতা বেশ কার্যকর ও আরামদায়ক। 


রেইনকোটের পক্ষে যুক্তি

বৃষ্টি নামলেই অধিকাংশ মানুষ ছাতার খোঁজ করেন। কিন্তু সবসময় কি এটাই সেরা চয়েজ? বছরের পর বছর ধরে ছাতা জনপ্রিয় হয়ে আসলেও রেইনকোট এখন সমানতালে এগিয়ে আছে। নিজেকে শুকনো রাখতে এটা হতে পারে বুদ্ধিদীপ্ত ও কার্যকর এক সমাধান। আমাদের দেশে সাধারণত সাধারণ প্লাস্টিক, পলিয়েস্টার এবং নাইলনের তৈরি রেইনকোট বেশি ব্যবহৃত হয়। আসুন এবার রেইনকোটের পক্ষে কিছু যুক্তি দেখে আসি-


ছাতা আপনার মাথা এবং হয়তো কাঁধ অবধি ঢেকে রাখতে পারে। কিন্তু বাকি অংশ? দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ছাতা খুব একটা কার্যকর হয়না। এইদিকে রেইনকোট এগিয়ে। এটি আপনাকে পুরো শরীরের সুরক্ষা দেয়।


রেইনকোটের সবচেয়ে বড় পজেটিভ দিক হলো এটি আপনাকে শুকনো রাখার পাশাপাশি হাত দুটোকে মুক্ত রাখে। হাতে ব্যাগ, ফোন বা যাই থাকুক না কেনো, ছাতা সামলানোর ঝামেলা ছাড়াই আপনি অবাধে চলাচল করতে পারবেন।


সাইকেল বা বাইক আরোহী, গণপরিবহন ব্যবহারকারীদের জন্য এটা হতে পারে আদর্শ।


ছাতা হয়তো হাল্কা বৃষ্টি থেকে সুরক্ষা দেয় কিন্তু ঝড়ো আবহাওয়ার জন্য এটি কোনভাবেই উপযোগী নয়। বাতাসের ঝাপটায় ছাতা উলটে বিপাকে পড়াটা মোটেও সুখকর নয়। এইক্ষেত্রে রেইনকোট অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। বাতাসপূর্ণ পরিবেশে এটি ভালো কাজ করে।পথচারী বা জনাকীর্ণ এলাকায় ছাতা নিয়ে হাঁটতে অনেক অসুবিধা দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে রেইনকোট পরে যেকোন পথে, যেকোন এলাকায় নিশ্চিন্তে যাওয়া যায়। 


তাহলে এখন প্রশ্ন হলো, কোনটি বেশি কার্যকর? আসলে এর কোন একক উত্তর নেই। এটা নির্ভর করে আপনার প্রয়োজনের ওপর। প্রকৃতপক্ষে ছাতা ও রেইনকোট কোনটাই কারো প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। দুটোরই আছে আলাদা সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা। কারো কাছে ছাতাটাই সবচেয়ে সহজ সমাধান তো আবার কারো মতে, প্রবল বাতাস আর বৃষ্টিতে রেইনকোটের কোন বিকল্প নেই। পরিস্থিতি বুঝে সঠিক সময়ে সঠিক সঙ্গী বেছে নিলেই বর্ষার ভোগান্তি অনেকটাই কমে যাবে। 

sidebar ad