ইশরাত জাহান এনা
দুজনের জন্য নয়, দুজনের সুস্থতার জন্য খান। প্রাচীন কাল থেকে শুনে এসেছি গর্ভবতী হলে দুই জনের খাবার খেতে হবে।আসলেই কী কথাটা কতটা সঠিক? চলুন জেনে নিই বিশেষজ্ঞরা কী বলে। আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস (এসিওজি) এর তথ্যমতে, ‘‘গর্ভাবস্থায় দ্বিগুণ পরিমাণ খাবার নয়, বরং দ্বিগুণ স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন।’’
এছাড়া এসিওজি আরও পরামর্শ দেয়— প্রতিদিন বিভিন্ন খাদ্যগোষ্ঠী থেকে সুষম খাবার খান। ফল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য, প্রোটিন ও দুগ্ধজাত খাবারের সমন্বয় রাখুন।ফলিক অ্যাসিড, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করুন।
ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এন-এইচ-এস, ইউকে) এর মতে, দুজনের জন্য খেতে হবে এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা। এমনকি যমজ সন্তান হলেও দ্বিগুণ খাবার খাওয়ার প্রয়োজন হয় না।
হু ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বলে,দুজনের জন্য বেশি নয়, দুজনের সুস্থতার জন্য সুষম খাবার খান। গর্ভাবস্থায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সুষম, বৈচিত্র্যময় ও নিরাপদ খাবার।
প্রথম ট্রাইমেস্টার (১–৩ মাস)
এই সময় শিশুর মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ গঠনের শুরু হয়।
কী খাবেন?
প্রোটিন
ফল
টিপস
অল্প অল্প করে
বারবার(দিনে ৫–৬ বার)।
সকালে খালি পেটে বিস্কুট বা টোস্ট খেলে বমিভাব কিছুটা কমতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফলিক অ্যাসিড শুরু করুন।
দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টার (৪–৬ মাস)
এই সময় শিশুর দ্রুত বৃদ্ধি শুরু হয় এবং মায়ের শক্তির চাহিদাও কিছুটা বাড়ে।
কী খাবেন?
প্রচুর সবজি
টিপস
প্রতিদিন একটি করে মৌসুমি ফল খান।
আয়রনযুক্ত খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খেলে আয়রন ভালো শোষিত হয়। হালকা হাঁটার অভ্যাস করতে পারেন (চিকিৎসকের অনুমতি থাকলে)।
তৃতীয় ট্রাইমেস্টার (৭–৯ মাস)
এই সময় শিশুর ওজন দ্রুত বাড়ে এবং মায়ের শরীরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
কী খাবেন?
ফাইবার
টিপস
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং বাম কাতে শোয়ার অভ্যাস করুন (চিকিৎসক অন্য পরামর্শ না দিলে)।
একটি সহজ দৈনিক খাবারের রুটিন
সকাল
সকালের নাস্তা
দুপুর
বিকেল
রাত
ঘুমানোর আগে
১ গ্লাস কুসুম গরম দুধ (সহ্য হলে)
মনে রাখবেন
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন।চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফলিক অ্যাসিড, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য সাপ্লিমেন্ট নিয়মিত গ্রহণ করুন। কাঁচা বা আধাসেদ্ধ ডিম, কম রান্না করা মাংস বা মাছ, অপাস্তুরিত দুধ এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলুন।নিজের ওজন নিয়ে অযথা চিন্তা না করে, নিয়মিত প্রসবপূর্ব (অ্যান্টেনাটাল) চেকআপ করান।
মূল বার্তা: গর্ভাবস্থায় বেশি খাওয়া নয়, সঠিক খাবার সঠিক সময়ে খাওয়াই মা ও শিশুর সুস্থতার চাবিকাঠি।