টিনএজ সময়টা সন্তানের জীবনের খুব সংবেদনশীল একটি অধ্যায়। এই বয়সে শরীর-মন, চিন্তাভাবনা ও আত্মপরিচয়ে দ্রুত পরিবর্তন আসে। তাই বাবা-মায়ের কিছু আচরণ সন্তানকে শাসন করার বদলে আরও দূরে সরিয়ে দিতে পারে।
টিনএজ সন্তানের সঙ্গে যে আচরণগুলো মোটেই করা উচিত নয়:
সবার সামনে অপমান করা-
ভুল করলে সবার সামনে বকা, অপমান বা ছোট করা তার আত্মসম্মানে গভীর আঘাত করতে
পারে। ব্যক্তিগতভাবে বুঝিয়ে বলা অনেক বেশি কাজে দেবে।
অন্য সন্তানের সঙ্গে তুলনা করা,ওর ছেলে এত ভালো, তুমি কেন পারো না?এই ধরনের
কথা সন্তানের মধ্যে হীনম্মন্যতা ও ক্ষোভ তৈরি করতে পারে।
সবসময় সন্দেহ করা-
বন্ধু, ফোন, পড়াশোনা কিংবা বাইরে যাওয়া সবকিছু নিয়ে অকারণে সন্দেহ করলে সন্তান
সত্য কথা বলা বন্ধ করে দিতে পারে।
তার কথা না শুনেই সিদ্ধান্ত দেওয়া,টিনএজারদেরও নিজস্ব মতামত ও অনুভূতি থাকে।
কথা বলার সুযোগ না দিয়ে শুধু নির্দেশ দিলে সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ে।
রাগের সময় গালাগালি বা কটু কথা বলা, তুমি কিছুই পারো না,
“তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না”
এ ধরনের কথা মুহূর্তের রাগে বলা হলেও সন্তানের মনে দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে।
অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ করা:
প্রতিটি বন্ধুত্ব, পোশাক, শখ, ফোন ব্যবহার বা ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ন্ত্রণ করতে
গেলে সন্তান স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ হারায় এবং গোপনীয়তা বাড়তে পারে।
তার ব্যক্তিগত বিষয় অন্যের কাছে বলা,সন্তান আপনাকে বিশ্বাস করে কোনো ব্যক্তিগত
কথা বললে তা আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের সামনে প্রকাশ করা উচিত নয়। বিশ্বাস একবার নষ্ট
হলে ফিরিয়ে আনা কঠিন।
শুধু ফলাফল নিয়ে চাপ দেওয়া,“কত পেল?”এর পাশাপাশি “কেমন লাগছে?” “কোথায় সমস্যা
হচ্ছে?”
এগুলোও জানতে হবে। ফলাফল নয়, চেষ্টা ও শেখার প্রক্রিয়াকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তার অনুভূতিকে তুচ্ছ করা:
“এটা কোনো সমস্যা হলো?”, তোমাদের বয়সে এসব হয় নাকি?এভাবে অনুভূতিকে
উড়িয়ে দিলে সে ভবিষ্যতে নিজের সমস্যা নিয়ে বাবা-মায়ের কাছে আসতে অনীহা বোধ করতে পারে।
ভালোবাসাকে শর্তসাপেক্ষ করে দেওয়া,ভুল করলেও সন্তান যেন বুঝতে পারে ভুল কাজটি
গ্রহণযোগ্য নয়, কিন্তু সন্তান হিসেবে সে ভালোবাসা ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত নয়।
মনে রাখা জরুরি-
টিনএজ সন্তানকে শুধু শাসন করার বয়স নয়, বোঝার বয়সও।
কঠোর নিয়মের পাশাপাশি প্রয়োজন সম্মান, বিশ্বাস, সীমারেখা এবং খোলামেলা কথোপকথন।
বাবা-মা যদি এমন একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে পারেন যেখানে সন্তান ভুল করলেও
সত্যি কথা বলতে ভয় না পায়, সেটিই তার জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।
ঢাকা/টিএ