ইশরাত জাহান ইনা
একটি ছোট্ট প্রাণ তোমার ভেতরে বেড়ে উঠছে,তাই নিজের প্রতিটি যত্নই আজ তার ভবিষ্যৎ।মা হওয়ার অনুভূতি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি। কিন্তু এই সুন্দর যাত্রায় সামান্য অবহেলাও কখনো কখনো বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অনেক মা ভাবেন,এগুলো তো স্বাভাবিক! আর ঠিক সেই ভুল ধারণাই ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।কিন্তু সচেতনতা আপনাকে বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে।
গর্ভাবস্থায় নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি করবেন না। দ্রুত হাসপাতালে বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন:
* যোনিপথ দিয়ে রক্তপাত
* তীব্র বা ক্রমাগত পেটব্যথা
* শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া (বিশেষ করে ২৮ সপ্তাহের পর)
* হঠাৎ পানি ভেঙে যাওয়া।তীব্র মাথাব্যথা, ঝাপসা দেখা বা চোখে আলো ঝলকানো।
* মুখ, হাত বা পা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া
* ১০০.৪°F (৩৮°C) বা তার বেশি জ্বর
* শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
* খিঁচুনি হওয়া
* বারবার বমি, কিছুই খেতে বা পান করতে না পারা।
মনে রাখবেন, আপনার প্রতিটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রতিটি পুষ্টিকর খাবার, প্রতিটি বিশ্রাম আর প্রতিটি সচেতন সিদ্ধান্ত আপনার অনাগত সন্তানের জন্য একটি নিরাপদ আগামী গড়ে তোলে।
কী করবেন?
নিয়মিত ANC চেকআপ করুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন, ফলিক অ্যাসিড ও ক্যালসিয়াম গ্রহণ করুন।
সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি ও বিশ্রাম নিশ্চিত করুন।
নিজের শরীরের অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তনকে কখনোই অবহেলা করবেন না।
এসব লক্ষণের যেকোনো একটি দেখা দিলে বাড়িতে অপেক্ষা করবেন না।
যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতাল বা প্রসূতি সেবাকেন্দ্রে যান।
মা, তুমি শুধু নিজের জন্য নও... তোমার হৃদয়ের নিচে আরেকটি ছোট্ট হৃদয় স্পন্দিত হচ্ছে।
তাকে নিরাপদ রাখার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আজ তোমার।
এই পোস্টটি শেয়ার করুন। হয়তো আপনার একটি শেয়ারই কোনো গর্ভবতী মাকে সময়মতো সচেতন করবে, আর রক্ষা পাবে দুটি অমূল্য জীবন—একজন মা ও তার অনাগত সন্তান।
তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), American College of Obstetricians and Gynecologists (ACOG), National Health Service (NHS, UK)
লেখা: