সম্পর্কের শুরু থেকেই বয়সের ব্যবধান নিয়ে কম সমালোচনা শুনতে হয়নি বলিউড অভিনেতা মিলিন্দ সোমন ও তাঁর স্ত্রী অঙ্কিতা কনওয়ারকে। ২৬ বছরের এই ব্যবধান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে নানা কটাক্ষ, নেতিবাচক মন্তব্য। তবে সময়ের সঙ্গে সেই সমালোচনাকে পেছনে ফেলে নিজেদের মতো করে সংসার গুছিয়েছেন তাঁরা। মিলিন্দের কাছে বয়সের হিসাবের চেয়ে সম্পর্কের গভীরতাই বড়। আর সেই বিশ্বাসেই একসঙ্গে পথ চলছেন দুজন।
ভালোবাসার কি কোনো বয়স হয়? সম্পর্কের সমীকরণে বয়সের ব্যবধান কি সত্যিই বড় হয়ে ওঠে? এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলিউড অভিনেতা ও মডেল মিলিন্দ সোমন এবং তাঁর স্ত্রী অঙ্কিতা কনওয়ারকে। দুজনের বয়সের ব্যবধান ২৬ বছর। ২০১৮ সালে বিয়ের পর থেকেই এই ব্যবধান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। কেউ তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে কৌতূহল দেখিয়েছেন, কেউ আবার করেছেন কটাক্ষ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁরা বুঝিয়ে দিয়েছেন, একটি সম্পর্কের স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে না বাইরের মানুষের মতামত।
৪ নভেম্বর ৬১ বছরে পা দিয়েছেন মিলিন্দ। তাঁর জন্মদিন ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে অঙ্কিতার সঙ্গে বয়সের ব্যবধান এবং এ নিয়ে তাঁদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। সম্প্রতি জুমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানিয়েছেন, সম্পর্কের বয়সের ব্যবধান নিয়ে মানুষের মন্তব্য তাঁকে খুব একটা বিচলিত করেনি। তবে অঙ্কিতার জন্য শুরুর সময়টা সহজ ছিল না।
মিলিন্দের ভাষায়, এ ধরনের পরিস্থিতি সামলানোর অভিজ্ঞতা অঙ্কিতার তুলনামূলক কম ছিল। তাই নেতিবাচক মন্তব্যগুলো তাঁর মনে প্রভাব ফেলত। বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাও হয়েছে। মিলিন্দ অঙ্কিতাকে বুঝিয়েছিলেন, যারা তাঁদের নিয়ে মন্তব্য করছেন, তাঁরা আসলে কাউকেই ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। ফলে তাঁদের কথাকে নিজেদের জীবনের ওপর প্রভাব ফেলতে দেওয়ার কোনো কারণ নেই।
অভিনেতার মতে, এই উপলব্ধি অঙ্কিতাকে দ্রুত মানসিকভাবে শক্ত হতে সাহায্য করেছে। এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক মন্তব্য তাঁকে আগের মতো বিচলিত করতে পারেনি। স্ত্রীর এই মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসাও করেছেন মিলিন্দ।
সমালোচনার চেয়ে সম্পর্কের বিশ্বাস বড়
একটি সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি কোথায়? মিলিন্দ ও অঙ্কিতার গল্পে তার উত্তর পাওয়া যায় পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থায়। তাঁদের মতে, অন্যের অনুমোদন পাওয়ার জন্য তাঁরা একসঙ্গে থাকেননি। বরং নিজেদের ভালো থাকা এবং সম্পর্কের প্রতি বিশ্বাসই তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
মিলিন্দ জানিয়েছেন, সময়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ককে মানুষ আগের চেয়ে বেশি স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করছে। বিষয়টি তাঁদের ভালো লাগে। তবে মানুষের গ্রহণযোগ্যতা তাঁদের সম্পর্কের ভিত্তি নয়। দুজনের মধ্যে যে ঘনিষ্ঠতা ও বোঝাপড়া রয়েছে, সেটিই বাইরের সমালোচনা সামলে উঠতে সাহায্য করেছে।
বয়সের পাশাপাশি সংস্কৃতির ব্যবধানও
মিলিন্দ ও অঙ্কিতার সম্পর্কের বৈচিত্র্য শুধু বয়সের ব্যবধানেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের বেড়ে ওঠা, সাংস্কৃতিক পরিচয়, ভাষা ও জীবনযাপনের অভ্যাসেও রয়েছে পার্থক্য। মিলিন্দ মহারাষ্ট্রের মানুষ, অন্যদিকে অঙ্কিতার শিকড় আসামে। ফলে খাবার, ভাষা, পারিবারিক পরিবেশ থেকে শুরু করে জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গিতেও রয়েছে ভিন্নতা।
এর আগে হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিলিন্দ বলেছিলেন, বয়সের ব্যবধানের কারণে তাঁদের চিন্তাভাবনা ও জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তাঁরা ভিন্ন প্রজন্মের মানুষ, ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। কিন্তু এই ভিন্নতার মধ্যেও একে অপরের সঙ্গে চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির মিল খুঁজে পাওয়াটাই তাঁর কাছে বিশেষ।
অঙ্কিতার সঙ্গে পরিচয়ের পর নিজের জীবন আরও সুন্দর হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, ভিন্নতা সব সময় দূরত্ব তৈরি করে না; কখনো কখনো সেই ভিন্নতাই সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করে।
হোটেলের পরিচয় থেকে সাতপাকে বাঁধা
মিলিন্দ ও অঙ্কিতার পরিচয় হয়েছিল চেন্নাইয়ের একটি হোটেলে। তখন অঙ্কিতা কাজ করতেন বিমানসেবিকা হিসেবে। প্রথম পরিচয় থেকে ধীরে ধীরে তৈরি হয় ঘনিষ্ঠতা। এরপর প্রেমের সম্পর্ক। কয়েক বছর একসঙ্গে পথ চলার পর ২০১৮ সালের ২২ এপ্রিল বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
বিয়ের সময় মিলিন্দের বয়স ছিল ৫২ বছর, অঙ্কিতার ২৬। অর্থাৎ, বয়সের ব্যবধান ছিল ঠিক ২৬ বছর। তাঁদের বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। তবে সমালোচনার মুখে নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি কেউই।
২০১৯ সালে একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের প্রচারাভিযানেও বয়সের ব্যবধান নিয়ে ওঠা নেতিবাচক মন্তব্যের জবাব দিয়েছিলেন এই দম্পতি। তাঁদের বক্তব্য ছিল, সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দুজন মানুষের ভালো থাকা।
মিলিন্দ ও অঙ্কিতার গল্প তাই শুধু বয়সের ব্যবধান নিয়ে আলোচনার গল্প নয়। এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মানিয়ে নেওয়া, ভিন্নতাকে গ্রহণ করা এবং একে অপরের পাশে থাকার গল্পও। তাঁদের সম্পর্ক মনে করিয়ে দেয়, ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে পথ চলতে গেলে বাইরের পৃথিবীর অনুমোদনের চেয়ে নিজেদের বোঝাপড়া অনেক বেশি জরুরি। বয়সের হিসাবে দুই প্রজন্মের দূরত্ব থাকলেও মনের মিল থাকলে সেই দূরত্ব যে সম্পর্কের বাধা হয়ে দাঁড়ায় না, নিজেদের জীবন দিয়েই যেন সেই বার্তা দিচ্ছেন তাঁরা।