সারাদিনের ক্লান্তি শেষে রাতে বিছানায় মাথা রাখার অপেক্ষায় থাকেন অনেকেই। আরামদায়ক ঘুমের জন্য যেমন ভালো বালিশ প্রয়োজন, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ বালিশের কাভার কতটা পরিষ্কার। কারণ, প্রতিদিন যে বালিশের ওপর মুখ রেখে ঘুমাচ্ছেন, সেটিই অজান্তে হয়ে উঠতে পারে ত্বকের নানা সমস্যার কারণ। ব্রণ, চুলকানি, অ্যালার্জি কিংবা ত্বকের জ্বালাপোড়ার পেছনে অপরিষ্কার বালিশের কাভারেরও ভূমিকা থাকতে পারে।
দিনের পর দিন একই বালিশের কাভার ব্যবহার করলে তাতে জমতে থাকে ঘাম, ত্বকের মৃত কোষ, মুখের তেল, ধুলাবালু এবং চুলের যত্নে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ। এসব উপাদানের সঙ্গে জীবাণু ও অ্যালার্জেনও জমতে পারে। রাতে ঘুমানোর সময় মুখের ত্বক দীর্ঘক্ষণ এই অপরিষ্কার কাপড়ের সংস্পর্শে থাকে। ফলে সংবেদনশীল ত্বকে দেখা দিতে পারে নানা ধরনের অস্বস্তি।
ব্রণের কারণ হতে পারে অপরিষ্কার কাভার
ব্রণপ্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে বালিশের কাভারের পরিচ্ছন্নতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মুখের অতিরিক্ত তেল, ঘাম ও মৃত কোষ কাভারে জমে থাকতে পারে। এগুলোর সঙ্গে ধুলাবালু ও অন্যান্য ময়লা মিশে ত্বকের সংস্পর্শে এলে ব্রণপ্রবণ ত্বকের সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে যাঁরা এক পাশে মুখ রেখে ঘুমান, তাঁদের গাল ও চোয়ালের আশপাশে ব্রণ দেখা দিতে পারে।
তবে শুধু বালিশের কাভারই ব্রণের কারণ নয়। হরমোনের পরিবর্তন, জিনগত বৈশিষ্ট্য, ত্বকের ধরন এবং ব্যবহৃত প্রসাধনীর কারণেও ব্রণ হতে পারে।
চুলকানি ও অ্যালার্জির ঝুঁকি
বালিশের কাভারে জমে থাকা ধুলা, ধুলার মাইট এবং তাদের বর্জ্য সংবেদনশীল ব্যক্তিদের অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে মুখ, ঘাড় কিংবা শরীরের সংস্পর্শে আসা অংশে চুলকানি, লালচে ভাব ও জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে। যাঁদের একজিমা বা অ্যালার্জিপ্রবণ ত্বক রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বেশি হতে পারে।
এ ছাড়া বালিশের কাভারে ব্যবহৃত কাপড়ের রং, সুগন্ধিযুক্ত ডিটারজেন্ট বা কাপড় পরিষ্কারের রাসায়নিকের প্রতিক্রিয়াতেও কারও কারও ত্বকে অস্বস্তি হতে পারে।
ত্বকের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে চুলও
বালিশের কাভারের সঙ্গে শুধু মুখের ত্বক নয়, চুলেরও দীর্ঘ সময় সংস্পর্শ থাকে। অপরিষ্কার কাভারে জমে থাকা ঘাম, তেল ও প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ চুলে ময়লা জমার অন্যতম কারণ হতে পারে। আবার খসখসে কাপড়ের সঙ্গে চুলের ঘর্ষণে চুল জট পাকানো, ভেঙে যাওয়া ও রুক্ষ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ কারণে অনেকেই চুল ও ত্বকের যত্নে সিল্ক বা সাটিনের বালিশের কাভার ব্যবহার করেন। এসব কাপড়ের মসৃণ পৃষ্ঠ ঘর্ষণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে কাপড়ের ধরন যা-ই হোক, পরিষ্কার রাখাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কত দিন পরপর বদলাবেন বালিশের কাভার?
বালিশের কাভার কত দিন পরপর ধুতে হবে, তা নির্ভর করে ঘাম, ত্বকের ধরন, পরিবেশ ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের ওপর। সাধারণভাবে সপ্তাহে অন্তত একবার বালিশের কাভার ধোয়া ভালো। তবে যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ, যাঁরা রাতে বেশি ঘামেন কিংবা চুলে নিয়মিত তেল ও প্রসাধনী ব্যবহার করেন, তাঁদের আরও ঘন ঘন কাভার বদলানো প্রয়োজন হতে পারে।
যেভাবে রাখবেন বালিশের কাভার পরিষ্কার
১. সপ্তাহে অন্তত একবার বালিশের কাভার ধুয়ে নিন। প্রয়োজন হলে আরও ঘন ঘন পরিষ্কার করুন।
২. ত্বকের সংবেদনশীলতা থাকলে সুগন্ধিবিহীন ও মৃদু ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন।
৩. কাভার ধোয়ার পর ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় ব্যবহার করবেন না।
৪. ঘুমানোর আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। মেকআপ বা সানস্ক্রিনের অবশিষ্টাংশ নিয়ে ঘুমাতে যাবেন না।
৫. বালিশের কাভার অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।
৬. সম্ভব হলে একাধিক বালিশের কাভার রাখুন, যাতে নিয়মিত বদলানো সহজ হয়।
৭. বালিশও নিয়মিত পরিষ্কার করুন। কারণ, শুধু কাভার পরিষ্কার রাখলেই বালিশের ভেতরে জমে থাকা ধুলা ও অ্যালার্জেনের সমস্যা পুরোপুরি দূর হয় না।
সচেতনতা জরুরি
ত্বকের সমস্যা দেখা দিলেই সব দায় বালিশের কাভারের ওপর চাপানো ঠিক নয়। তবে পরিচ্ছন্নতার অভাব সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। নিয়মিত কাভার পরিষ্কার রাখার পরও যদি ব্রণ, চুলকানি, র্যাশ বা ত্বকের জ্বালাপোড়া দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।