বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরার স্বপ্ন মাহির

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ছোট পর্দার পরিচিত মুখ থেকে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার জাতীয় মঞ্চে সেরার মুকুট—নতুন এক পরিচয়ে যাত্রা শুরু করলেন সামিরা খান মাহি। ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৬’-এর বিজয়ী হয়ে এবার তাঁর সামনে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরার চ্যালেঞ্জ।



অভিনয়ের মঞ্চে পরিচিতি পেয়েছেন, জয় করেছেন দর্শকের ভালোবাসা। এবার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চেও নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখলেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি। ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৬’-এর বিজয়ী হয়েছেন তিনি। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে জমকালো আয়োজনে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। আর সেই ঘোষণার মধ্য দিয়ে মাহির সামনে খুলে গেল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে ও বাংলাদেশকে তুলে ধরার নতুন দুয়ার।



বিজয়ীর নাম ঘোষণার মুহূর্তটি ছিল আবেগে ভরা। নিজের নাম শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মাহি। এরপর গত বছরের বিজয়ী তানজিয়া জামান মিথিলা তাঁর মাথায় পরিয়ে দেন বিজয়ের মুকুট। মুকুট পরানোর পর দুই বিজয়ীর আলিঙ্গন যেন এক প্রজন্মের কাছ থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার প্রতীক হয়ে ওঠে। তাঁদের একসঙ্গে মঞ্চে হাঁটার সময় করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।



সেদিন মাহির সাজেও ছিল বিজয়ীর আভিজাত্য। শ্যাম্পেন-গোল্ড রঙের ঝলমলে মারমেইড গাউনে নজর কাড়েন তিনি। অফ-শোল্ডার পোশাকটিতে ছিল ভারী পাথরের কাজ। অন্যদিকে বিদায়ী বিজয়ী মিথিলার পরনে ছিল হালকা নীল ও সিলভার রঙের গাউন। কাঁধের পাখার মতো নকশায় তাঁর পোশাকেও ফুটে উঠেছিল রাজকীয় আবহ। বিজয়ী ঘোষণার সেই বিশেষ মুহূর্তে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী তমা মির্জাও।



তবে মাহির কাছে এই মুকুট কেবল সৌন্দর্যের স্বীকৃতি নয়, বরং বড় একটি দায়িত্বের সূচনা। আগামী ১১ নভেম্বর থেকে পুয়ের্তো রিকোতে শুরু হতে যাওয়া ৭৫তম ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দেশের পরিচয় ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরাই এখন তাঁর লক্ষ্য।



বিজয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মাহি জানান, তাঁর বাবা-মা তাঁকে বলেছেন, ‘যাও, বিশ্ব জয় করে আসো।’ পরিবারের এই অনুপ্রেরণাই তাঁর সাহসের বড় জায়গা। সবার কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, যেন বিশ্ব জয় করে ফিরতে পারেন এবং বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারেন। তাঁর কথায়, ‘আমি জিতলে বাংলাদেশ জিতে যাবে।’



ছোট পর্দার দর্শকদের কাছে সামিরা খান মাহি আগে থেকেই পরিচিত মুখ। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর সাবলীল উপস্থিতি ও আত্মবিশ্বাস তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। এবার সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার বড় মঞ্চে পা রাখছেন তিনি। অভিনয়ের অভিজ্ঞতা, ক্যামেরার সামনে সাবলীলতা এবং দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তাঁর জন্য সহায়ক হতে পারে।



মাহির আগে বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়িয়েছেন তানজিয়া জামান মিথিলা। ২০২৫ সালে ৭৪তম ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১২২টি দেশের প্রতিযোগীর সঙ্গে লড়াই করে সেরা ৩০-এ জায়গা করে নেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, পিপলস চয়েস বিভাগেও শীর্ষস্থান অর্জন করেন। মিস ইউনিভার্সের ইতিহাসে সেটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম প্লেসমেন্ট। মিথিলার সেই অর্জন দেশের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার ইতিহাসে তৈরি করেছে নতুন মাইলফলক।



এবার সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পালা মাহির। মুকুট জয়ের আনন্দের পাশাপাশি তাঁর সামনে রয়েছে প্রত্যাশার চাপও। কারণ, আন্তর্জাতিক মঞ্চে একজন প্রতিযোগী শুধু নিজের প্রতিনিধিত্ব করেন না, তুলে ধরেন নিজের দেশ, সংস্কৃতি ও মানুষের পরিচয়ও।




অভিনেত্রী থেকে জাতীয় পর্যায়ের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার বিজয়ী—মাহির এই যাত্রা তাই কেবল ব্যক্তিগত অর্জনের গল্প নয়। এটি নতুন স্বপ্ন দেখার, নতুন পরিচয়ে নিজেকে আবিষ্কারের এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা উঁচিয়ে ধরার প্রত্যাশার গল্প। এখন দেখার বিষয়, মিথিলার সাফল্যের পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে কতটা আলো ছড়াতে পারেন সামিরা খান মাহি।

sidebar ad