৩০ বছর বয়স মানেই জীবনের কোনো ‘ডেডলাইন’ নয়। তবে এই বয়সে এসে একটি বিষয় বুঝে নেওয়া জরুরি—শরীর অনেক অভ্যাসের হিসাব সঙ্গে সঙ্গে না দিলেও, তার প্রভাব জমতে জমতে ভবিষ্যতে নানা সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনিয়মিত ঘুম, সারাদিন বসে থাকা, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, ধূমপান কিংবা নিজের শরীরের সতর্কসংকেতকে অবহেলা—এসব অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই ৩০ পেরোলেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বরং কিছু অভ্যাসকে ‘এখন থেকে আর নয়’ বলার সময় হতে পারে।
১. শরীরের সব সংকেতকে ‘কিছু না’ বলে উড়িয়ে দেবেন না
অনেকেই ভাবেন, বয়স তো মাত্র ৩০—অথচ এই বয়সেই উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে শর্করা বা কোলেস্টেরলের মতো কিছু ঝুঁকি শুরুতে সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নাও দেখাতে পারে। তাই নিজের পারিবারিক ইতিহাস, ওজন, জীবনযাপন ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা মানেই অসুস্থতা খোঁজা নয়; বরং নিজের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে আগে থেকে জানা।
২. ঘুমকে বিলাসিতা ভাববেন না
“সপ্তাহের শেষে ঘুমিয়ে নেব”—এই অভ্যাস শরীরের জন্য সব সময় ভালো সমাধান নয়। বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্কের নিয়মিত অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে হৃদ্স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
৩. সারাদিন বসে থেকে ভাববেন না, ‘সময় পেলেই ব্যায়াম শুরু করব’
ব্যস্ততা সবারই আছে। কিন্তু শরীরকে সচল রাখার সময়টা যদি সব সময় ভবিষ্যতের জন্য তুলে রাখেন, তাহলে সেই ভবিষ্যৎ আর নাও আসতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০–৩০০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম অথবা ৭৫–১৫০ মিনিট জোরালো মাত্রার কার্যক্রম করা উচিত। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়ামও উপকারী। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম হৃদ্রোগ, স্ট্রোক ও টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
৪. প্রতিদিনের খাবারকে শুধু ‘পেট ভরানোর’ বিষয় ভাববেন না
ব্যস্ত জীবনে সব কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে গিয়ে ফাস্ট ফুড, অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার অনেকের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত জায়গা করে নেয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস ভালো খবর নয়।
বৈচিত্র্যময় খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি, ডাল, পূর্ণশস্য এবং উপযুক্ত প্রোটিন রাখা গুরুত্বপূর্ণ; অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি সীমিত করা উচিত।
৩০ বছর বয়সের পর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হয়তো ‘ডায়েট’ শুরু করা নয়—বরং এমন খাবারের অভ্যাস তৈরি করা, যা দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা সম্ভব।
৫. ধূমপান বা তামাক ছাড়ার বিষয়টি পিছিয়ে দেবেন না
“আরও কয়েক বছর পরে ছেড়ে দেব”—এটি স্বাস্থ্যকর পরিকল্পনা নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সব ধরনের তামাক ব্যবহারই ক্ষতিকর এবং নিরাপদ মাত্রার তামাক ব্যবহার বলে কিছু নেই। তবে ভালো খবর হলো, তামাক ছাড়লে যেকোনো বয়সেই স্বাস্থ্যগত উপকার পাওয়া যায়।
তাই ছাড়তে চাইলে ‘সঠিক সময়ের’ অপেক্ষা না করে চিকিৎসক বা প্রমাণভিত্তিক তামাক ত্যাগ সহায়তার সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
৬. মানসিক চাপকে ‘এটাই তো স্বাভাবিক’ বলে চেপে রাখবেন না
৩০-এর দশকে কাজ, পরিবার, অর্থনৈতিক দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত জীবনের চাপ একসঙ্গে বাড়তে পারে। কিন্তু সব সময় ক্লান্ত থাকা, ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত উদ্বেগ বা মন খারাপকে শুধু ব্যস্ত জীবনের অংশ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। শরীরের মতো মনেরও বিশ্রাম প্রয়োজন। প্রয়োজনে বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলা, কাজ ও বিশ্রামের মধ্যে সীমারেখা তৈরি করা এবং প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: হু, সিডিসি