ফিটনেস জগতে ‘বিয়ার ক্রল’ বা হামাগুড়ির মতো ব্যায়াম জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ক্রীড়াবিদ থেকে শুরু করে ফিটনেস–অনুরাগীরা নিয়মিত এই অনুশীলন করে থাকেন। এটি একই সঙ্গে শরীরের একাধিক অংশ সক্রিয় করে। নারীদের জন্য হামাগুড়ি দেওয়া বা ‘বিয়ার ক্রল’ খুব উপকারী হতে পারে। কারণ এটি একই সঙ্গে শক্তি, ভারসাম্য, নমনীয়তা এবং শরীরের নিয়ন্ত্রণ উন্নত করতে সাহায্য করে।
১. পেলভিক ফ্লোর ও কোর পেশি শক্তিশালী করতে সহায়ক
নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং বয়স বৃদ্ধির কারণে পেলভিক ফ্লোর ও কোর পেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। হামাগুড়ি দেওয়ার সময় এই পেশিগুলো সক্রিয় থাকে, যা শরীরের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে এটি পেলভিক ফ্লোরের চিকিৎসার বিকল্প নয়।
২. কোমরব্যথার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক
দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা বা দৈনন্দিন কাজের কারণে হওয়া কোমরের অস্বস্তি কমাতে এ ধরনের অনুশীলন সহায়ক হতে পারে। (Harvard Health)
৩. হাড় ও পেশির স্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে
হামাগুড়ি একটি ‘ওয়েট-বিয়ারিং’ ব্যায়াম। অর্থাৎ শরীরের ওজন হাত ও পায়ের মাধ্যমে বহন করতে হয়। নিয়মিত এমন ব্যায়াম পেশি শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে এবং হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
৪. ভারসাম্য ও পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের মধ্যে ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। হামাগুড়ির সময় হাত-পা সমন্বিতভাবে ব্যবহার করতে হয়, যা ভারসাম্য ও শরীরের নিয়ন্ত্রণ (coordination) উন্নত করতে সাহায্য করে।
৫. ক্যালোরি খরচ ও ফিটনেস উন্নত করে
হামাগুড়ি একটি মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার শারীরিক অনুশীলন। এটি হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়াতে, ক্যালোরি খরচ করতে এবং সামগ্রিক ফিটনেস উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও প্রসব-পরবর্তী সময়ে সতর্কতা
গর্ভাবস্থায় বা সন্তান জন্মের পর হামাগুড়ি দেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা নারীদের স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সবার শারীরিক অবস্থা এক নয়, তাই এই অনুশীলন সবার জন্য একইভাবে উপযোগী নাও হতে পারে।
সূত্র: হার্ভাড হেলথ পাবলিশিং