মানসিক চাপ অনুভব করলে হাঁটতে বের হওয়ার পরামর্শ প্রায়ই দেওয়া হয়। নিয়মিত হাঁটার শারীরিক উপকারের পাশাপাশি এটি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। হাঁটার এমনই একটি ধীর, সচেতন ও মনোযোগী ধরন হলো ‘তাই চি ওয়াকিং’।
তাই চি প্রাচীন চীনের একটি ধ্যানভিত্তিক মার্শাল আর্ট। এতে শরীর ও মনকে শিথিল রাখতে ধীর ও উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে এগিয়ে চলতে হয়। কয়েক শতাব্দী ধরে চীনে চর্চা হয়ে আসা তাই চি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জনপ্রিয় হচ্ছে।
তাই চি বিশেষজ্ঞ ও লেখক লেডা এলিয়টের মতে, ‘‘মানুষ এমন কিছু চর্চার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন, যা একই সঙ্গে মানসিকভাবে স্থির থাকতে এবং শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তাই চি ওয়াকিং করতে বিশেষ পোশাক, যন্ত্রপাতি বা কোনো স্টুডিওর প্রয়োজন হয় না। প্রায় যেকোনো জায়গায় এটি করা যায়।’’
তাই চি ওয়াকিং কী?
তাই চি ওয়াকিং হলো তাই চির মৌলিক নড়াচড়ার কৌশল শেখার একটি অনুশীলন। এতে ধীরে ও সচেতনভাবে এক পা থেকে অন্য পায়ে শরীরের ওজন স্থানান্তর করা হয়।
সাধারণ হাঁটার সময় আমাদের মন সাধারণত গন্তব্যের দিকে থাকে। কিন্তু তাই চি ওয়াকিংয়ে প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর মনোযোগ দিতে হয়। কোন পা শরীরের ওজন বহন করছে এবং কোন পা হালকা—এ বিষয়ে সচেতন থাকাই হলো এই হাঁটার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
যেভাবে করবেন
প্রথমে শরীর সোজা রাখুন এবং কাঁধ শিথিল করুন। ভালো ভঙ্গি বজায় রাখতে নিচের দিকে না তাকিয়ে সামনে তাকান।
এরপর ধীরে ধীরে শরীরের পুরো ওজন এক পায়ের ওপর নিয়ে আসুন। যে পায়ে ওজন থাকবে, সেটিকে ‘ভারী’ পা হিসেবে অনুভব করুন। অন্য পা হালকা হয়ে যাবে। এবার হালকা পাটি সামনে এগিয়ে গোড়ালি মাটিতে রাখুন, তবে পায়ের আঙুল সামান্য ওপরে থাকবে। এরপর ধীরে ধীরে পুরো পা মাটিতে নামিয়ে শরীরের ওজন সেই পায়ের ওপর স্থানান্তর করুন।
সামনের পায়ে শরীরের পুরো ওজন চলে যাওয়ার পর পেছনের পা হালকা হবে। তখন সেটি তুলে সামনে এনে আবার একইভাবে পা ফেলতে হবে। এভাবে ধীরে ধীরে হাঁটতে হবে এবং প্রতিটি পদক্ষেপে ভারী ও হালকা পায়ের পার্থক্য অনুভব করতে হবে।
কী কী উপকার হতে পারে?
তাই চি ওয়াকিংয়ের অন্যতম পরিচিত উপকার হলো ভারসাম্য উন্নত করা।
তাই চি নিয়ে করা গবেষণায় বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভারসাম্য, দৈনন্দিন চলাফেরার সক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে শুধু তাই চি ওয়াকিং নিয়ে গবেষণা তুলনামূলকভাবে কম। তাই চির একই ধরনের নড়াচড়ার কৌশল এতে ব্যবহৃত হওয়ায় এসব উপকারের কিছু অংশ তাই চি ওয়াকিংয়েও পাওয়া যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
সব মিলিয়ে, তাই চি ওয়াকিং এমন একটি সহজ অনুশীলন, যাতে ধীরগতির হাঁটার সঙ্গে শরীরের ভারসাম্য, সচেতনতা ও মনোযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নারীর জন্য কেন বিশেষ উপকারী?
একজন নারীর জন্য অনেক সময় ভারী ওয়াক আউট করা অসম্ভব হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে ‘তাই চি ওয়াকিং’-এর মতো ব্যায়াম হতে পারে ভালো সমাধান। এ ছাড়া, একজন নারী অনেক সময় মানসিক চাপে ভোগেন, সমস্যা সমাধানে তিনি ‘তাই চি ওয়াকিং’ করতে পারেন। এতে শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্য দুই’ই খুঁজে পাবেন।
*ভোগ অবলম্বনে
ঢাকা/আরএস