ইশরাত জাহান ইনা
বর্ষা মানেই একদিকে স্বস্তি, অন্যদিকে শহুরে জীবনে নানান ভোগান্তি। একদিকে প্রচন্ড তাপমাত্রায় যদিও কিছুটা স্বস্তি আসে কিন্ত সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, যানজট, নোংরা পানি, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও মশার উপদ্রব অনেক মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তোলে।
ঘরে থাকা মানুষ যেখানে বৃষ্টি বিলাশ করছে কর্মমূখি আম জনতা তখন এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জীবন সংগ্রামে নাজেহাল।
নগর জীবনে বর্ষাকালে সাধারণ মানুষ নানা ধরনের ভোগান্তির সম্মুখীন হন।
প্রধান সমস্যাগুলো হলো-
জলাবদ্ধতা: অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাটে পানি জমে চলাচল ব্যাহত হয়। মিরপুর এলাকায় বিশেষ করে অল্প সময় বৃষ্টি হলেই দেখা যায় মারাত্মক জলবদ্ধতা।
তীব্র যানজট: বৃষ্টির কারণে যানবাহনের গতি কমে যায়,ফলে দীর্ঘ সময় রাস্তায় আটকে থাকতে হয়।যানবাহন সংকট আর অতিরিক্ত ভাড়ার কবলে পরতে হয় সাধারণ মানুষ কে।
চলাচলে দুর্ভোগ: ভাঙা রাস্তা, খোলা ম্যানহোল ও পিচ্ছিল পথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
দ্য ডেইলি স্টার (The Daily Star)-এ প্রকাশিত সংবাদ থেকে নেওয়া। সংবাদটি গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বৃষ্টির পানিতে ঢেকে থাকা একটি খোলা ড্রেনে পড়ে নাজমা খাতুন (২৬) নামে এক নারী মারা যান।
অসুস্থ রোগীদের কষ্ট: সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
কেউ কেউ রাস্তায় এম্বুলেন্স ই হয়তো মারা যায়।
অফিসগামী মানুষের দুর্ভোগ: দেরিতে অফিসে পৌঁছানো, পোশাক ভিজে যাওয়া এবং কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া তো আছেই সাথে থাকা মুল্যবান ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও ভিজে নস্ট হয়ে যায় অনেকের।
গণপরিবহনের সংকট: বাস,রিকশা বা অন্যান্য যানবাহন পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।যা থাকে তার অতিরিক্ত ভাড়ার খবলে পরতে হয়।
মশার উপদ্রব বৃদ্ধি: জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার হয়, ডেঙ্গুসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বাড়ে।পুরো বর্ষাকাল জুরে তাই মহামারি আকার ধারণ করে এই ডেঙ্গু রোগ।
পানিবাহিত ও মৌসুমি রোগ: ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জ্বর, সর্দি-কাশির প্রকোপ বাড়ে।
ঘরে মানুষ অসুস্থ থাকে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট: ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ চলে গেলে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়।নিন্মবিত্তের সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
পানি ও পয়োনিষ্কাশন সমস্যা: নোংরা পানি রাস্তায় উঠে আসে,দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়।জনজীবনে অস্বস্তি আসে।
নিচু এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ: ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাপ বিচ্ছুর প্রকোপ বাড়ে।
ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতি: ক্রেতা কমে যাওয়ায় দোকানপাট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয় কমে।
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ব্যাহত: বাজার, ব্যাংক,চিকিৎসা বা অন্যান্য জরুরি কাজ করতে অতিরিক্ত সময় ও ভোগান্তি পোহাতে হয়।
মানসিক চাপ ও ক্লান্তি: প্রতিদিনের অনিশ্চয়তা, যানজট ও দুর্ভোগ মানুষের সাধারণ শান্তি টুকুও কেড়ে নেয়।
তাহলে সমাধান কোথায়?
শহরের ড্রেন ও খাল-নালা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে, যাতে ড্রেন বন্ধ না হয়।
জলাবদ্ধতা কমাতে কার্যকর ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের সময় পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে।
নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে পলিথিন ও প্লাস্টিক ড্রেনে না ফেলা, নিজের আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলা।
স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিকদের যৌথ উদ্যোগে বর্ষাকালীন প্রস্তুতি নিতে হবে।
পরীক্ষার সময় বর্ষা শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ নিয়ে আসে।বিশেষ করে শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হিমশিম খায়।
পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের প্রধান ভোগান্তি-
জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তায় চলাচলে সমস্যা।
অতিরিক্ত যানজটে দীর্ঘ সময় আটকে থাকা।
ভিজে পোশাক বা জুতা নিয়ে পরীক্ষা দিতে হওয়া, যা অস্বস্তি ও মনোযোগে প্রভাব ফেলে।
দেরিতে পৌঁছানোর আশঙ্কায় মানসিক চাপ ও উদ্বেগ।
ভারী বৃষ্টিতে পরিবহন সংকট বা যানবাহন না পাওয়া।
বই, প্রবেশপত্র বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিজে যাওয়ার ঝুঁকি।
করণীয়-
পরীক্ষার দিন অন্তত ১–২ ঘণ্টা আগে বাসা থেকে বের হওয়া।
প্রবেশপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জলরোধী ফাইলে রাখা।
ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখা।
পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার বিকল্প রুট আগে থেকেই জেনে রাখা।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে পরিকল্পনা করা।
বার্তা-
পরীক্ষার ফলাফল অনেক সময় একটি দিনের ওপর নির্ভর করে। তাই বর্ষাকালে শিক্ষার্থী,অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবারই উচিত আগাম প্রস্তুতি নেওয়া,যাতে বৃষ্টির কারণে কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
ছবি: সংগৃহীত